সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
আমার জীবনের প্রথম টিউশনি শুরু
করেছিলাম এক বড়ভাই এর সোর্সে।
মহসিন হল থেকে বাসাবো, সপ্তাহে ৩
দিন, ভার্সিটি এডমিসনের মেয়ে।
আন্টি শুধু বলেছিল “মার, কাট তোমার
ব্যাপার,
আমি মেয়েকে ঢাবিতে পড়াতে চাই।

সেদিন একটু কনফিউসড হয়ে গেসিলাম,
টাকা কামাইতে যায়ে কি আমাকে এতটা
পড়ানো শুরু করতেই নাস্তা চলে আসল।
প্রথম দিনই ম্যাগি নুডুলস ।

এর পর
চা এর সাথে বিস্কিট, পুরি, সিঙ্গারা,
পিঠা সবই আসত। আমার
ছোটবেলা থেকে ই চেটেপুটে খাওয়ার
অভ্যাস। ভাবতাম
ভদ্রতা করে রেখে দিলে হয়ত খাবার
নষ্ট হবে। ছাত্রীকে প্রথম
দিকে সাধতাম, খেতনা। তাই পরের
দিকে নিজেই পুরোটা খেতাম ।

একদিন খেয়াল করলাম নাস্তার
পরিমান বেড়ে গেছে । খেলাম
পুরোটাই। এর পর
থেকে যেভাবে পরিমাণ
টা বাড়তে থাকল , তাকে আর
নাস্তা বলা চলেনা। একে তো ৫০০০
টাকার টিউশনি, তার উপরে নাস্তার
এমন বাহার।
খুশিতে মাঝে মাঝে রিক্সাতে করে পড়া
। তো একদিন ছাত্রীকে অঙ্ক
করতে দিয়ে এক প্যাকেট টিপ বিস্কিট
আর চা দিয়ে শুরু করেছি আমার নাস্তার
পর্ব। আমি বিস্কিটে প্রথম বাইট
দিয়েছি মাত্র, দেখে ছাত্রী ফিক
করে হেসে দিল , দেখে তো আমার
মুখ দিয়ে আর বিস্কিট ঢুকেনা।
আমি তো ধরেই নিসি কিছু গরবর হইসে।

সেতো কিছুতেই বলবেনা হাসির কারণ।
আমিও খাবার নিয়ে ট্রাম্প করলাম,
না বললে খাবই না। এবার ললনা মুখ
খুলল, আমি নাকি অনেক সুন্দর করে খাই,
একটু ও খাবার রেখে দেইনা,
এটা আন্টি অনেক পছন্দ করে।

একথা শুনে তো কান দিয়ে ধুয়া বাইর
হইতে শুরু করসে আমার । বুঝলাম
আমার নাস্তার পরিমান বেড়ে কেন
ডিনারের পর্যায়ে গেসে।

আমি আস্তে করে বললাম অংক টা শেষ
করেন, আর আধা খাওয়া বিস্কিট টা শেষ
করে অন্য দিকে চেয়ে থাকলাম,
মাথা তো পুরাই হেং খাইছে।

এটা দেখে ছাত্রী ও ভয় পায়ে গেসে,
বলে “ভাইয়া প্লিজ আপনি খাবার শেষ
করেন, নাহলে আম্মু ভাববে আমি কিছু
বলেছি আপনাকে”। ছাত্রীকে বাঁচানোর
জন্য ই ছোট ছোট বাইটে শেষ করলাম
বাকিটা। ভাগ্যিস
আন্টি এটা দেখতে চায়নি যে আমি কতটা খাই
। আমি তার স্নেহের মান
রাখতে পেরেছিলাম, আমার ছাত্রী এখন
ঢাবির পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনে র
স্টুডেন্ট।

মোরালঃ নাস্তাই সফলতার চাবিকাঠি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অসম্ভব সুন্দর একটি মধুর প্রেমের গল্প। পড়ে দেখবেন।

"ছেড়ে যাবি নাতো" ক্লাস থেকে বের হয়ে একটু চিন্তায় পরলাম। পকেটে মাত্র একশ টাকা। সম্বল বলতে এটুকুই। কাল নীরার জন্মদিন। তিন বছর ধরে একসাথে আছি। মেয়েটাকে কখনোই কিছু দেয়া হয়নি। পৃথীবিতে কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা অল্পতেই খুশী। নীরাও তাই। ও এমন একটা মেয়ে যার কাছে কিছুই লুকানো যায়না। আর তাই তিন বছরের মধ্যে ওর সামনে কখনো মন খারাপ করতে পারিনি। এমনিতেই ও অনেক  বেশি কেয়ারিং। নীরার সাথে আমার পরিচয় ফার্মগেটে। ইউ-সি-সি তে কোচিং করার সুবাদে। ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হয়ে প্রথমেই নিজেকে গুছিয়ে নিতে কিছু সময় লাগে। জীবনের বড় একটা অংশ মেয়েদের কাছ থেকে দূরে থাকার ফলে মেয়েদের প্রতি তীব্র কৌতূহল ছিল। যদিও ছেলে হিসেবে আমি বেশ লাজুক প্রকৃতির। একবার কোচিং এর সামনে বসে ফুচকা খাওয়ার পর টাকা দিতে গেলে খেয়াল করলাম পকেটে মানিব্যাগ নেই। এক প্রকার অস্বস্তির মধ্যে পড়লাম। ছোটবেলা থেকেই আত্মসম্মান বোধটা আমার প্রচন্ড। ফুচকাওয়ালাকে বললাম 'মামা, মানিব্যাগ ফেলে এসেছি। আমার কাছে টাকা নাই। এই ঘড়িটা রাখুন।' দোকানী বিজয়ীর হাসি দিল। স্টিভ জবস আইপড আবিস্কার করে যেমন হাসি দিয়েছিলেন অনেকটা সেরকম। ...
মেয়েঃ আমি যদি পড়ে যাই তুমি কি আমাকে তুলবে ?? ছেলেঃ না!! মেয়েঃ আমি যখন দুঃখ পাব তুমি কি আমার কান্না মুছিয়ে দেবে?? ছেলেঃ নাহ!! মেয়েঃ আমাকে দেখতে যদি কখনো খারাপ লাগে তখনোকি আমাকে ভালবাসবে?? ছেলেঃ না!! মেয়েঃ যাই হোক!! কমপক্ষে সত্য বলার সৎ সাহস তোমার আছে!! এজন্য তোমাকে ধন্যবাদ!! ছেলেটি তখন মেয়েটিকে কাছে টেনে নিয়ে বললঃ আমি তোমাকে পড়ার পর তুলবো না!! কারন, আমি তোমাকে পড়ার আগেই ধরে ফেলব!! আমি তোমার দুঃখের কান্না মুছে দিবো না!! কারন, আমি তোমার কাছে কোন দুঃখকে আসতে দেবো না!! ♥♥ যখন তোমাকে দেখতে খারাপ লাগে তোমাকে সে সময় ভালবাসব না!! কারন ওই সময় আমার কখনোই আসবে না,তুমি সব সময় আমার কাছে সুন্দর!! ♥♥♥ আমি তোমাকে অন্য সব কিছুর চেয়ে ভালোবাসি!! সবসময় এবং সর্বদা!! হয়ত কথাগুলো মুখের কথা কিন্তু আসলেই যদি কেউ কাউকে ঠিক এভাবে ভালবাসতে পারে সেটা হবে অসাধারণ।।।।

Breakup √বহুদিনের পুরানো রিলেশন কিভাবে ব্রেকআপ করতে হয়???

প্রথমত... আজাইড়া ক্যাচাল করেন। কেন রাইতের বেলায় লুঙ্গি পইরা ঘুমায়, কেন বই নিয়া পড়তে বসে, কেন বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যায়, কেন হাসার সময় দাত দেখা যায়, কেন চোক্ষে পলক ফেলে, কেন ঘুমান...