সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হাইস্কুল থেকে বন্ধুরা জানে যে আমি একটু আলাদা

হাইস্কুল থেকে বন্ধুরা জানে যে আমি একটু আলাদা ।আলাদা মানে এই যে, মেয়েদের সাথে কথা বলা, বান্ধবী থাকা বা গার্লফ্রেন্ড থাকা এসবের আমি ধার ধারিনা ।আমি নিজেও আমার সম্বন্ধে এসবই ভাবতাম ।বরাবরই ভালো ছাত্র ছিলাম এবং তা সবাই জানতো ।আমার অবস্থাটা কেমন ছিল তা সম্পর্কে একটা কাহিনী বলা যায় ।
কেউ একজন আমার উপর কোনো কারণে ক্ষেপে ছিল ।সে আমার নাম করে ক্লাসমেটকে চিঠি দিয়েছিল আবার ফোনেও ডিস্টার্ব করছিল ।মজার ব্যাপার হচ্ছে ঐ মেয়ে বিশ্বাসই করে নি ওটা আমি ছিলাম এবং পরে সে আমাকে জানায় যে কেউ তোমার ইমেজ নষ্ট করতে চাচ্ছে ।এই হল আমার অবস্থা ।

নাইন টেনে পড়ার সময় বুঝতে পারলাম যে এতদিন ধরে নিজের যেইটা নিয়ে মনে মনে গর্ব করতাম সেইটা পুরাই ভুয়া ।ধীরে ধীরে মেয়েদের সাথে মিশতে ভালো লাগতে লাগল, কথা বলতে ভালো লাগতে লাগল ইত্যাদি ইত্যাদি ।বন্ধুরা বলতে লাগল, ছেলে এতদিনে লাইনে আসতেছে ।যাই হোক, তারপরও প্রেম ব্যাপারটা নিয়ে আগ্রহ ছিল না ।আবার হয়তোবা ছিল, আমি বুঝতে পারি না ।যথারীতি ভালো রেজাল্ট করে এস এস সি পাশ করলাম ।কলেজে ভর্তি হলাম ।কলেজে ভর্তি হয়ে দেখি, একি! এইটা কি কলেজ নাকি বৃন্দাবন! আমার ফ্রেন্ডরা স্কুল লাইফের গার্লফ্রেন্ড ছেড়ে কলেজে এসে নতুন গার্লফ্রেন্ড বানায়ে ফেলল ।ইতোমধ্যে আবার কয়েকজনের ব্রেকাপ হয়ে নতুন রিলেশনও শুরু হয়ে গেল ।আমি কিছুদিন চললাম আগের মতই ।কলেজে মোটামুটি সবাই আমাকে চেনে ভালো ছাত্র হিসেবে ।কিন্তু কাহিনীতে মোড় নিল

।ঢাকা থেকে আগত একটা মেয়ে আমার এপিকময় কাহিনীতে টুইস্ট এনে দিল ।কলেজের টীচারের কাছে ম্যাথ প্রাইভেট শুরু করছিলাম ।মেয়েটিও ঐ টীচারের কাছেই পড়তো ।পড়া শুরু করার প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেল স্বাভাবিকভাবেই ।একদিন রুমে গিয়ে দেখি ঐ মেয়েটিই শুধু বসে আছে ।ভাবলাম যে একটু মনে হয় আগেই চলে আসছি ।ঢুকতে গিয়েও তাই না ঢুকে বাইরে দাঁড়ালাম ।ও মনে হয় আমাকে দেখছিল ।যাই হোক কতক্ষণ আর থাকি ।দুই মিনিট পরই মনে হল যে যাই ভিতরে ।গিয়ে বসলাম ভিতরে ।এই প্রথম একবার চোখাচোখি হল ওর সাথে ।বসার পর ও ও আমাকে বলল, ভালো আছো? একটু চমকে গিয়েই বললাম, হ্যা ।ভালো আছি ।তুমি?
বলল, ভালো ।

তারপর একটু সময় নিয়ে বলল, তুমি একটু বেশি ভাব দেখাও ।
আমি তো অবাক ।বলে কি!
কিছু বলার আগেই একদল ঢুকে পড়ল রুমে ।সেদিনকার মতো কথা বলা শেষ ।পরের ডেটে একটু আগে গেলাম ইচ্ছা করেই ।যা আশা করেছিলাম তাই ।ও একাই বসে আছে ।গিয়ে বসার আগেই বললাম, ভালো আছো?
হ্যা, ভালো আছি ।
আমি বললাম, তোমার ক্যান মনে হইল যে আমি ভাব দেখাই?
মনে হল মানে হল, সব কিছুর আবার কারণ লাগে নাকি?
তা না ।বলছিলা তাই বললাম ।
আচ্ছা বাদ দাও ।তোমাকে একটা কথা বলব ।আমার তো তেমন কোনো বন্ধু নাই এখানে ।তুমি কি আমার বন্ধু হবে ?
আমি তো অবাক ।কয়েক মূহুর্ত পর বললাম, কেন না ।
ও বলল, তা হলে ফ্রেন্ড হিসেবে আমাকে একটু হেল্প কর ।এই অংকটা পারছি না ।
করে দিলাম অংকটা ।

ধীরে ধীরে আমাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হতে লাগল ।ফোনে কথা হতে লাগল ।ফেসবুকে মেসেজিং চতে লাগল ।কলেজের ফার্স্ট ইয়ার চলে গেল ।একদিনের কথা ।ক্যান্টিনে বসে আছি ।ও আসতেছে ।আরে বারবার ও ও করতেছি ক্যান ।ওর নামটা হল লাবণ্য ।তা ও আসার সময় কয়েকটা ছেলে ওকে দেখে কিছু খারাপ মন্তব্য করল ।আমি আর থাকতে পারলাম না ।শাসিয়ে আসলাম ।লাবণ্য বলল, তুই পাল্টে গেছিস রে ।
সেদিনও বুঝিনি, কেন আমি ওরকম রিঅ্যাক্ট করেছিলাম ।আরেকদিন ওর ফোন বন্ধ ছিল বলে এত চিন্তা হচ্ছিল যে কি বলব ।তারপর সামান্যতেই ওর জন্য চিন্তা করাটা বেড়ে গেল ।বুঝলাম যা কোনোদিন হয় নি তা এখন হচ্ছে ।আমি প্রেমে পড়ছি ।এই ব্যাপারটা বোঝার পর আমি বুঝলাম যে লাবণ্যও আমার জন্য একটু বেশি কেয়ার করে ।আগে যেটা আমার স্বাভাবিকই মনে হত ।কিন্তু বলার সাহস হচ্ছিল না ।আর ওর সামনে গেলেই আমি যেন কেমন হয়ে যাই ।আমার মনে হয় ওর ও বুঝতো ।

অবশেষে এই যুগে এসে লিখলাম প্রেম এস এম এস ।সারা রাত চিন্তায় ঘুম হলনা কেননা কোনো রিপ্লাই আসে নি ।পরদিন সকালে ভয়ে ভয়ে গেলাম ওর কাছে ।ও স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে লাগল ।আর আমার চিন্তা বাড়তে লাগল ।দেখি ও মোবাইল টিপতেছে ।কিছুক্ষণের মধ্যে একটা মেসেজ আসল ।

'এতদিন লাগল? তবে এটাতে চলবে না ।প্রেম পত্র লাগবে ।'
ওর দিকে যখন তাকালাম তখন দেখি ও হাসতেছে ।তখন ওকে যা সুন্দর লাগছিল ।মনে হচ্ছিল আজীবন ওর দিকে তাকিয়ে থাকি ।ও বলল, কিরে এভাবে তাকায়া আছিস ক্যান?

আমি কিছু না বলে একটু হাসলাম ।দেখি ও আমার দিকে তাকায়ে আছে ।
সারারাত ধরে একটা প্রেমপত্র লিখলাম ।পরদিন ওকে দিলাম ।কিছৃ না বলে ও চলে গেল ।রাতে মেসেজ দিল, চিঠিটা ভালো হয়নি ।আরেকটা লেখ ।
আমি বুঝতে পারছিলাম না যে বিরক্ত হব না খুশি হব ।যাই হোক আরেকটা লিখলাম ।
আমার তুমি, আমি তোকে ভালোবাসি ।আমি তোকে ভালোবাসি ।আমি তোকে ভালোবাসি ।আমি তোকে ভালোবাসি ।আমি তোকে ভালোবাসি ।আমি তোকে ভালোবাসি.... একশো বার ।

চিঠিটা ওকে দিলাম ।ও বলল, একটু থাক ।আমি আসতেছি ।
আমি বসে বসে ভাবতেছি কিছুক্ষণ পরের আনন্দের সময় গুলার কথা ।ও আসল ।বলল, তুই কি পাগল নাকি !
হুম ।তোর জন্য ।
তুই কি জানিস আমি তোকে পাগলের মত ভালবাসি ?
জানি ।
তোর চিঠি গুলো পাওয়ার জন্যই আমি রিপ্লাই দেই নি ।
জানি ।
এতদিনে বুঝলাম কেন প্রেম করতে চাইনি প্রথমে ।লাবণ্যকে হারালে আমি বাঁচবো না ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অসম্ভব সুন্দর একটি মধুর প্রেমের গল্প। পড়ে দেখবেন।

"ছেড়ে যাবি নাতো" ক্লাস থেকে বের হয়ে একটু চিন্তায় পরলাম। পকেটে মাত্র একশ টাকা। সম্বল বলতে এটুকুই। কাল নীরার জন্মদিন। তিন বছর ধরে একসাথে আছি। মেয়েটাকে কখনোই কিছু দেয়া হয়নি। পৃথীবিতে কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা অল্পতেই খুশী। নীরাও তাই। ও এমন একটা মেয়ে যার কাছে কিছুই লুকানো যায়না। আর তাই তিন বছরের মধ্যে ওর সামনে কখনো মন খারাপ করতে পারিনি। এমনিতেই ও অনেক  বেশি কেয়ারিং। নীরার সাথে আমার পরিচয় ফার্মগেটে। ইউ-সি-সি তে কোচিং করার সুবাদে। ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হয়ে প্রথমেই নিজেকে গুছিয়ে নিতে কিছু সময় লাগে। জীবনের বড় একটা অংশ মেয়েদের কাছ থেকে দূরে থাকার ফলে মেয়েদের প্রতি তীব্র কৌতূহল ছিল। যদিও ছেলে হিসেবে আমি বেশ লাজুক প্রকৃতির। একবার কোচিং এর সামনে বসে ফুচকা খাওয়ার পর টাকা দিতে গেলে খেয়াল করলাম পকেটে মানিব্যাগ নেই। এক প্রকার অস্বস্তির মধ্যে পড়লাম। ছোটবেলা থেকেই আত্মসম্মান বোধটা আমার প্রচন্ড। ফুচকাওয়ালাকে বললাম 'মামা, মানিব্যাগ ফেলে এসেছি। আমার কাছে টাকা নাই। এই ঘড়িটা রাখুন।' দোকানী বিজয়ীর হাসি দিল। স্টিভ জবস আইপড আবিস্কার করে যেমন হাসি দিয়েছিলেন অনেকটা সেরকম। ...
মেয়েঃ আমি যদি পড়ে যাই তুমি কি আমাকে তুলবে ?? ছেলেঃ না!! মেয়েঃ আমি যখন দুঃখ পাব তুমি কি আমার কান্না মুছিয়ে দেবে?? ছেলেঃ নাহ!! মেয়েঃ আমাকে দেখতে যদি কখনো খারাপ লাগে তখনোকি আমাকে ভালবাসবে?? ছেলেঃ না!! মেয়েঃ যাই হোক!! কমপক্ষে সত্য বলার সৎ সাহস তোমার আছে!! এজন্য তোমাকে ধন্যবাদ!! ছেলেটি তখন মেয়েটিকে কাছে টেনে নিয়ে বললঃ আমি তোমাকে পড়ার পর তুলবো না!! কারন, আমি তোমাকে পড়ার আগেই ধরে ফেলব!! আমি তোমার দুঃখের কান্না মুছে দিবো না!! কারন, আমি তোমার কাছে কোন দুঃখকে আসতে দেবো না!! ♥♥ যখন তোমাকে দেখতে খারাপ লাগে তোমাকে সে সময় ভালবাসব না!! কারন ওই সময় আমার কখনোই আসবে না,তুমি সব সময় আমার কাছে সুন্দর!! ♥♥♥ আমি তোমাকে অন্য সব কিছুর চেয়ে ভালোবাসি!! সবসময় এবং সর্বদা!! হয়ত কথাগুলো মুখের কথা কিন্তু আসলেই যদি কেউ কাউকে ঠিক এভাবে ভালবাসতে পারে সেটা হবে অসাধারণ।।।।

Breakup √বহুদিনের পুরানো রিলেশন কিভাবে ব্রেকআপ করতে হয়???

প্রথমত... আজাইড়া ক্যাচাল করেন। কেন রাইতের বেলায় লুঙ্গি পইরা ঘুমায়, কেন বই নিয়া পড়তে বসে, কেন বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যায়, কেন হাসার সময় দাত দেখা যায়, কেন চোক্ষে পলক ফেলে, কেন ঘুমান...